সপ্তাহব্যাপী শিশুদের সিনেমা দেখার উৎসব শুরু

প্রকাশিত: 1:12 PM, March 6, 2022

সপ্তাহব্যাপী শিশুদের সিনেমা দেখার উৎসব শুরু

নিউজ ডেস্কঃ 

‘ফ্রেমে ফ্রেমে আগামী স্বপ্ন’ স্লোগানে শনিবার থেকে শুরু হলো সপ্তাহব্যাপী ছোটদের সিনেমা দেখার এই উৎসব। পুরো আয়োজনটির সঙ্গে মিশে আছে আছে শিশুদের সৃজনশীলতার প্রকাশ এবং সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয়। বরাবরের মতো উৎসবটির আয়োজন করছে ছোটরা। আবার প্রদর্শিত হচ্ছে তাদেরই নির্মিত চলচ্চিত্র কিংবা তাদের মনন উপযোগী সিনেমা। ৩৮টি দেশের বিচিত্র বিষয়ের ১১৭টি শিশুতোষ চলচ্চিত্র নিয়ে সজ্জিত হয়েছে এবারের আসর। ছবি দেখার পাশাপাশি রয়েছে কর্মশালা, সেমিনার, সেলিব্রেটিদের সঙ্গে ক্ষুদে নির্মাতাদের আড্ডাসহ নানা আয়োজন।

১১ মার্চ পর্যন্ত চলমান উৎসবের ভেন্যু ফিল্ম আর্কাইভ ভবনের প্রজেকশন হল। প্রতিদিন সকাল ১১টা, দুপুর ২টা, বিকেল ৪টা ও সন্ধ্যা ৬টায় মোট ৪টি প্রদর্শনী হবে। প্রতিটি প্রদর্শনীতে দেখানো হবে একাধিক ছবি।  শিশু-কিশোরসহ অভিভাবকদের জন্য  উন্মুক্ত থাকবে সকল প্রদর্শনী । সিনেমা  দেখার জন্য কোনো প্রবেশমূল্য না থাকলেও গত বছরের মতো এবারও মাস্ক পরাকে উৎসবের টিকিট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া উৎসবে উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে যাতায়াতের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ।

আর্কাইভ ভবনের প্রজেকশন হলে উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত হন আয়োজনের প্রধান অতিথি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন  চিলড্রেন’স ফিল্ম সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা মোরশেদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুনিরা মোরশেদ মুন্নী, উপদেষ্টা. ড. ইয়াসমিন হক এবং ফিল্ম  আর্কাইভের মহাপরিচালক মো. নিজামূল কবীর। উৎসব সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন উৎসব পরিচালক শাহরিয়ার আল মামুন। সভাপতিত্ব করেন ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

উদ্বোধনী আলোচনায় বক্তারা বলেন, পৃথিবীতে এমন উৎসব একেবারে বিরল যে উৎসবের আয়োজক শিশুরাই। বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগাসহ ছবি নিয়ে আসার বিষয়টিও তারাই দেখভাল করে। সব মিলিয়ে এই উৎসবের মাধ্যমে শিশুদের বিকশিত হচ্ছে শিশুদের সৃজনশীলতা। বাড়ছে নেতৃত্ব দেয়ার সক্ষমতা। অন্যদিকে এই খুদে নির্মাতাদের অনেকেই আগামী দিনে দেশের চলচ্চিত্রশিল্পে ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে অনেকেই খুব ভালো ছবি নির্মাণ করছে। হয়তো একদিন তারা জাতীয় পুরস্কারও অর্জন করবে। এমনকি জাতীয়তার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ভুবনেও আলো ছড়াবে।

উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রদর্শিত হয় ডেনিস গ্যানসেল পরিচালিত জার্মান চলচ্চিত্র ‘জিম বাটন এন্ড দ্যা ওয়াইল্ড ১৩’। আজ রবিবার উৎসবের দ্বিতীয় দিনে সকাল ১১টায় দেখানো হবে ‘ফাইন্ডারস অফ দ্য লস্ট ইয়াট’ (ফিনল্যাল্ড), ‘ অ্যাপল ট্রি ম্যান’ (রাশিয়া) ও  ব্রাজিলের ছবি ‘অরোরা- দ্য স্ট্রিট দ্যাট ওয়ান্টেড টু বি আ রিভার’।  দুপুর ২টায় প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশের তিন ছবি  ‘শহরটা ঢাকা’, ‘দ্যা স্টোরি অফ নীলা’, ‘থ্রি ডটারর্স’ এবং ‘সাওয়াবানা’ (কানাডা), ‘দেয়্যার আর নাথিংস আনওয়ান্টেড’ (পোল্যান্ড),  ‘টেক হার্ট! (জার্মানি) ও  ‘দ্যা সিকার্স: থ্রিল নাইট’ (ডেনমার্ক)। বিকাল ৪টায় দেখানো হবে  ‘ক্রিপি’ (জার্মানি), ‘সুমো-কিড’ (রাশিয়া), ‘ফিয়ার’ (বাংলাদেশ), ‘ফলাফল’ (বাংলাদেশ) ও ‘ফ্রেমস’ (বাংলাদেশ)। সন্ধ্যা ছয়টায় প্রদর্শিত হবে ‘দ্যা সিক্রেট অফ মি. নস্টক’ (ফ্রান্স), ‘কুংফু গার্ল (চীন) , ‘থার্টি মিনিটস অন দ্যা আর্থ’ (রাশিয়া), ‘কমপ্লিটলি অর্ডিনারি ইভেন্টস অফ টেন্যান্টস’ (স্লোভেনিয়া) ও ক্রিপি (জার্মানি)।

উৎসবের অন্যতম আকর্ষণীয় বিভাগ হিসেবে রয়েছে দেশের শিশুদের নির্মিত প্রতিযোগিতা বিভাগ। এই বিভাগে জমাকৃত ২৫টি চলচ্চিত্রের মধ্যে নির্বাচিত ৯টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। এই ৯টি চলচ্চিত্রের মধ্যে ৩টি চলচ্চিত্র পুরষ্কার পাবে। পুরষ্কার হিসেবে থাকবে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও আর্থিক প্রণোদনা। পুরষ্কারের জন্য গঠিত ৩ সদস্যের জুরি বোর্ডের সবাই শিশু-কিশোর। অর্থাৎ ছোটদের নির্মিত শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রগুলো বাছাই করবে ছোটরাই।

‘ইয়াং বাংলাদেশি ট্যালেন্ট’  বিভাগের অংশ নিচ্ছেন ১৯ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ নির্মাতারা । এছাড়া ‘সামাজিক চলচ্চিত্র’ বিভাগে এবারের ‘নিরাপদ ইন্টারনেট’ বিষয়ের ওপর বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী থাকছে। এর বাইরে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগে জমা পড়া  ৯০টি দেশের ২১০০ চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে উৎসব কমিটির দ্বারা প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের মোট ১১৭টি চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রগুলো বিচার করার জন্য চলচ্চিত্র নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম, অমিতাভ রেজা চৌধুরী, শবনম ফেরদৌসীকে সদস্য করে আন্তর্জাতিক জুরি বোর্ড গঠন করা হয়। আবু শাহেদ ইমন, রাকা নওশিন নাওয়ার ও ফখরুল আরেফিন খানকে সদস্য করে ‘ইয়াং বাংলাদেশী ট্যালেন্ট’ বিভাগের চলচ্চিত্র বিচার করার জন্য একটি জুরি বোর্ড গঠন করা হয়।

এছাড়া গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বিভিন্ন দেশের শিশুদের বানানো চলচ্চিত্র নিয়ে থাকছে প্রতিযোগিতা বিভাগ, যেখান থেকে একটি চলচ্চিত্রকে পুরষ্কার দেওয়া হবে। উৎসবে ক্ষুদে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য বিভিন্ন কর্মশালা ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চারটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। আজ রবিবার সকাল ১১টায় ক্ষুদে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও ডিস্ট্রিবিউশনের ওপর কর্মশালা পরিচালনা করেন চলচ্চিত্র প্রযোজক আরিফুর রহমান। সন্ধ্যা ৬টায় ক্ষুদে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সাথে সেলিব্রেটি আড্ডায় অংশ নিবেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা।

সর্বশেষ সংবাদ