উত্তম চরিত্রবান ব্যক্তিই শ্রেষ্ঠ ঈমানদার

প্রকাশিত: 4:33 AM, January 3, 2022

উত্তম চরিত্রবান ব্যক্তিই শ্রেষ্ঠ ঈমানদার

ধর্ম ডেস্কঃ উত্তম চরিত্র মানব জীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন- ‘মুমিনের মধ্যে পরিপূর্ণ ঈমানদার হচ্ছে সে ব্যক্তি, যে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী (তিরমিযী)। উত্তম চরিত্র ছাড়া ঈমান প্রতিফলিত হয় না। এ কারণে আল্লাহ তাআলা উত্তম ও সুন্দরতম চরিত্রের মাধ্যমে তার প্রিয় হাবিব মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স.) এর প্রশংসা করে সূরা আল-কলামের ৪র্থ আয়াতে ইরশাদ করেছেন- ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত আছেন।’

উত্তম চরিত্র হচ্ছে- ঈমানের প্রতিফলন। যখন একজন মুসলমান বাস্তবে ও তার লেনদেনে ইসলামি চরিত্রের অনুসরণ করে তখনই সে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে যায়, যা তাকে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী করে দেয়। পক্ষান্তরে, যখনই একজন মুসলমান ইসলামের চরিত্র ও শিষ্টাচার থেকে দূরে সরে যায় সে বাস্তবে ইসলামের প্রকৃত ভিত্তি থেকে দূরে সরে যায়। সে যান্ত্রিক মানুষের মতো হয়ে যায়, যার কোনো অনুভূতি এবং আত্মা নেই। উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা (রাযি.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন- ‘মুমিন বান্দারা উন্নত চরিত্রের দ্বারা সারা রাত নামাজ আদায়কারী এবং সারা বছর রোজা পালনকারীর মর্যাদায় অতি সহজে পৌঁছে যেতে পারে।’ (আবু দাউদ)

উত্তম চরিত্র বা আখলাক তিন প্রকার ১. আখলাকে হাসানা; আখলাকে হাসানা হচ্ছে- কেউ যুলুম করলে, সেই যুলুমের চেয়ে বেশি প্রতিশোধ না নেওয়া। ২. আখলাকে কারিমা; আখলাকে কারিমা হচ্ছে- যুলুম করলে তা মাফ করে দেওয়া। ৩. আখলাকে আমিমা; আখলাকে আমিমা হচ্ছে- জালেমের যুলুম মাফ করে দেওয়ার পর তার প্রতি ইহসান বা উপকার করা।

একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত- সে সর্বদা সত্য কথা বলবে, কখনো মিথ্যা বলবে না। সে হবে সাহসী, কাপুরুষতাকে ঘৃণা করবে। সে কখনো প্রতারণার আশ্রয় নেবে না, সে হবে বিশ্বস্ত এবং আস্হাভাজন। সে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাসাধ্য পূর্ণরূপে পালন করবে। মুমিন কারও অগোচরে তার সমালচনা করবে না বা কারও সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করবে না। ন্যায়ের পক্ষে সে অত্যন্ত দৃঢ়তার পরিচয় দেবে। সত্য এবং বাস্তব ব্যাপারে দ্বিধাহীনভাবে নিঃসংকোচে কথা বলবে। সে অন্যের অধিকারে কখনো হস্তক্ষেপ করবে না। কেউ তার প্রতি অন্যায় করুক তা-ও সে কখনও বরদাশ্ত করবে না। মুমিন সব কাজে বিজ্ঞজনদের পরামর্শ নেবে। আর কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে আল্লাহর প্রতি ভরসা রেখে সিদ্ধান্েত অবিচল থাকবে। মুমিন হবে বিনয়ী এবং দয়ালু। ভালো এবং জনকল্যাণমূলক কাজ নিজে করবে, অন্যকে তা করার প্রতি উত্সাহিত করবে। সে খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকবে, অন্যকেও তা নিষেধ করবে। সবসময় সে আল্লাহর দ্বীনের সাহাঘ্যকারী হয়ে থাকবে। আল্লাহ আমাদেরকে এসব উত্তম আখলাক অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমীন!

সর্বশেষ সংবাদ