স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তীতে বাজেটেরও সুবর্ণজয়ন্তী

প্রকাশিত: 8:48 AM, June 1, 2021

স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তীতে বাজেটেরও সুবর্ণজয়ন্তী

নিউজ ডেস্কঃ  স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে দেশ, আর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এ পূর্ণ লগ্নে বাজেটেও সুবর্ণজয়ন্তী অর্থাৎ ৫০তম বাজেট পেশ করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। তবে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির এ তাণ্ডবে যখন লণ্ডভণ্ড অর্থনীতি সেদিকে লক্ষ রেখে এবারের বাজেটের প্রতিপাদ্য হতে যাচ্ছে ‘জীবন ও জীবিকার প্রাধান্য, আগামীর বাংলাদেশ’।

বুধবার (২ জুন) শুরু হতে চলেছে দেশের ৫০ তম বাজেট অধিবেশন, আর অর্থমন্ত্রী বাজেট পেশ করবেন ৩ জুন বিকেল ৩ টায়, যা এক বিরল অভিজ্ঞতা ও স্মরণীয় বলে মনে করছে বর্তমান সরকার ও একাদশ সংসদের সদস্যরা। এটি হচ্ছে আওয়ামীলীগ সরকারের ২১তম বাজেট।

অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামাল তার তৃতীয় বাজেট ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তীতে বাজেট অধিবেশনেরও সুবর্ণজয়ন্তী ঘটাবেন। এবারে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বৃহৎ ৬ লক্ষ কোটি টাকার ওপরে বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী। প্রতি অর্থবছরে জুন মাসে বাজেট উত্থাপন এবং ৩০ জুনের মধ্যে বাজেট পাস করার বিধান রয়েছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ৩ জুন ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। চলতি ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেট ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার। আর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট অর্থাৎ ১৯৭২-৭৩ সালে বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। দেশের প্রথম বাজেট উত্থাপন করেন তাজউদ্দীন আহমেদ।

এদিকে করোনা মহামারির কারণে অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হলেও বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে সংসদ সচিবালয়ের সার্বিক প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে। বাজেট অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সেকারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করাসহ লাল গালিচায় সেজেছে সংসদ সচিবালয়।

তবে ২ জুন বিকেল ৫টায় বাজেট অধিবেশন শুরু হলেও কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী বিদ্যমান সংসদের কোনো এমপি মৃত্যুবরণ করলে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও আলোচনা শেষে সংসদের বৈঠক মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার। এবারেও তার ব্যতিক্রম ঘটবে না। কেননা গত ৪ এপ্রিল মারা যান ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক। তার মৃত্যুতে সংসদে শোকপ্রস্তাবের উপর আলোচনা শেষে মুলতবি ঘোষণা করা হবে।

এরপর ৩ জুন বিকেল ৩ টায় ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। যা আগামী ৩০ জুন বুধবার পাস হবে। ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে ২০২১-২০২২ অর্থবছর।

এবারও বিরতি দিয়ে বাজেট অধিবেশন চলবে। সবমিলিয়ে ১০ থেকে ১২ কার্যদিবস চলতে পারে অধিবেশন। আগামী ৩ জুন বাজেট উত্থাপনের পর ৪ ও ৫ জুন শুক্র, শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ এরপর ৬ জুন সকাল ১১টায় অধিবেশন বসবে। সেদিন ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেট উত্থাপন এবং আলোচনা শুরু হবে। সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা শেষে ৭ জুন সম্পূরক বাজেট পাস হবে।

এরপর বিরতি দিয়ে আবার প্রস্তাবিত ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যগণ। প্রতিদিন সকাল ১১ টায় শুরু হয়ে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত চলবে বাজেট অধিবেশন। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারও কোভিড টেস্টের নেগেটিভ সনদ নিয়ে ঢুকতে হবে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। প্রতি ৩ দিন পর পর পুনরায় নেগেটিভ সনদ মিললেই কেবল অধিবেশনে যোগদান করতে পারবেন সংসদ সদস্যগণ।

তবে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জানিয়েছেন, সব ধরনের বিধি বিধান মেনে এবং এমপিদের আলোচনার সুযোগ দিয়েই বাজেট পাস করা যায় সেদিকে খেয়াল রেখেই এবার সূচি ঠিক করবেন কার্যউপদেষ্টা কমিটি। স্বাস্থ্য বিধি মেনে সংসদ অধিবেশন চলবে। অধিবেশনটি সংক্ষিপ্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরী বলেছেন, প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২০ জন সংসদ সদস্যকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ দূরত্বে বসে চলবে সংসদ অধিবেশন। সেক্ষেত্রে কারো কারো বসার সিটও পরিবর্তন করা হয়েছে। যেদিন যে সংসদ সদস্যের নাম তালিকায় থাকবে শুধু ওই দিনই তিনি সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে পারবেন। আগেই ফোনে জানিয়ে দেয়া হবে।

এবার সংসদ অধিবেশন কাভার করতে আসা গণমাধ্যমকর্মীদের দুবার কোভিট টেস্ট করার সুবাদে দুই দিন সংসদের সাংবাদিক লাউঞ্জে বসে অধিবেশন কভার করার সুযোগ দেয়া হয়েছে । ৩ জুন বাজেট পেশ হওয়ার দিন এবং অধিবেশন শেষ হওয়ার দিন ৩ জুলাই।

এদিকে অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের ইতিহাসে ২০২১-২২ অর্থবছরে আসছে সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেট। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মতো। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে তা ছিল ৬ শতাংশ। তবে আগের ১০ বছর ধরে বাজেট ঘাটতি রাখা হচ্ছিল ৫ শতাংশের নিচে। এবারে তা ভেঙে যাচ্ছে।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। অনুদান ছাড়া বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৬ শতাংশ বা ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ৫ লাখ ৬৮ হাজার বাজেট ঘোষণা হয়েছিল ১১ জুন। এরপর মাত্র ৯ দিনের বাজেট আলোচনা ছিল, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সংক্ষিপ্ততম বাজেট অধিবেশন। এবারেও ঘটতে চলেছে সংক্ষিপ্ত সময়ে বৃহৎ বাজেট পাশের রেকর্ড।