সিলেটে টিকা পেয়ে আনন্দিত শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: 5:20 AM, November 19, 2021

সিলেটে টিকা পেয়ে আনন্দিত শিক্ষার্থীরা

নিউজ ডেস্কঃ সময় তখন সকাল ১০টা বেজে ৪৭ মিনিট। নির্ধারিত পোশাক পরে মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বসেছিলেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী মাইশা সাবিহা। তার সামনে সাংবাদিকদের ক্যামেরা, চারপাশে প্রশাসনের লোকজন, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কলেজের শিক্ষকরা।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় মাইশার বাম হাতের মাংসপেশীতে করোনার প্রতিষেধক টিকা প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে দিয়েই সিলেটে কলেজ শিক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।

টিকা নেওয়ার পর মাইশা সিলেট মিররকে বলেন, ‘অবশেষে আমিও টিকা নিলাম। টিকা নিতে কোনো ভয় কাজ করেনি। কারণ পরিবারের অন্যান্য সদস্য আগেই টিকা নিয়েছেন। টিকা নেওয়ার পর ভালো লাগছে। নিজেকে সুরক্ষিত ভেবে আনন্দ লাগছে।’

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের পরিবেশ ছিল আনন্দমুখর। ২০২১ সালের পরীক্ষার্থীরা এ দিন বই খাতা ছাড়াই কলেজে আসেন। তাদের হাতে ছিল টিকা গ্রহণের জন্য কলেজ থেকে দেওয়া একটি ফরম এবং জন্মনিবন্ধনের অনুলিপি।

সারিবদ্ধভাবে কলেজের উপাধ্যক্ষের কক্ষের সামনে দাঁড়ান তারা। পাঁচজন করে তাদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে ঢুকানো হচ্ছে। কলেজের বিএনসিসির সদস্যরা শারীরিক দূরুত্ব নিশ্চিত করে পরীক্ষার্থীদের শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করেন। টিকা গ্রহণের পূর্বে শিক্ষার্থীদের অনেকের চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ দেখা গেলেও টিকা গ্রহণের পর বের হন হাসি মুখেই।

কলেজের আরেক শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার রীনা সিলেট মিররকে বলেন, ‘টিকার জন্য আমাদের সব সময় অপেক্ষা ছিল। টিকা নেওয়ার আগ মুহূর্তে কিছুটা ভয় কাজ করছিল। তবে টিকা প্রয়োগের সময় কোনো ব্যথা পাইনি, বা খারাপও লাগছে না। ফলে সব মিলিয়ে খুব আনন্দিত আমি।’

মহিলা কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকাদান শুরুর পর এমসি কলেজে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। কলেজের তথ্যকেন্দ্র ভবনের দ্বিতীয় তলায় শিক্ষক পরিষদের মিলনায়তনে ২০২১ সালের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হয়। এখানেও বিএনসিসির সদস্যরা টিকা গ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে লাইন দাঁড় করান। দুইজন শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়ার পর অন্যদের টিকার রুমে ঢুকানো হয়।

টিকা গ্রহণের পর কলেজের শিক্ষার্থী মারুফ আহমদ বলেন, ‘নিবন্ধন জটিলতা ছাড়াই টিকা নিতে পেরে ভালো লাগছে। সামনে যেহেতু আমাদের পরীক্ষা সেক্ষেত্রে টিকা নেওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এতে করে আমরা সুরক্ষিত থাকব। সবচেয়ে বড় কথা আমরা এখন মানসিকভাবে অনেকটা শক্ত থাকব।’

গত বছরের মার্চে দেশে করোনার সংক্রমণ শুরুর পর বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বারবার সংক্রমণ বাড়ায় প্রায় দেড় বছর বন্ধ ছিল দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দরজা। তবে সংক্রমণ কমে আসায় চলতি বছরের আগস্টে খুলে দেওয়া হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী করোনায় সংক্রমিত হয়ে পড়েন। স্কুল-কলেজ খোলার পর শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেয় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু করে।

গত ১৪ অক্টোবর মানিকগঞ্জে পরীক্ষামূলকভাবে ১২০ জন শিক্ষার্থীকে ফাইজারের টিকা দেওয়া হয়। তাদের পর্যবেক্ষণে রাখার পর পহেলা নভেম্বর ঢাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্কুল শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু হয়। সিলেটে প্রথমে স্কুল শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও এইচএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। নগরের চারটি কলেজের টিকাকেন্দ্রে তাদের এ টিকা দেওয়া হবে।