সারাদেশে গত একদিনে করোনায় মারা সর্বোচ্চ ৩৯ জন

প্রকাশিত: 10:36 AM, March 28, 2021

সারাদেশে গত একদিনে করোনায় মারা সর্বোচ্চ ৩৯ জন
নিউজ ডেস্কঃ  করোনার দাপটে বাড়ছে প্রাণহানি। সাড়ে ৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৯ জন মারা গেছেন একদিনে। শনাক্তের হারও বাড়ছে। গত পাঁচ দিন ধরে প্রতিদিনই তিন হাজারের ওপরে রোগী শনাক্ত হচ্ছে। গত শুক্রবার ৩ হাজার ৭৩৭ জন রোগী শনাক্ত হলেও গতকাল কিছুটা কমে ৩ হাজার ৬৭৪ জনে নেমেছে।

গতকাল শনাক্তের হার ছিল ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। শনাক্ত ও মৃত্যু ঊর্ধ্বমুখী হলেও মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই। গণপরিবহন থেকে শুরু করে বাজারহাট, শপিংমল, সমাবেশ, অফিস আদালতে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা থাকলেও সেটি কাগজে-কলমে। বাস্তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলার জন্য কোনো লক্ষণীয় কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। গেল কয়েকদিন নির্দিষ্ট কিছু স্থানে শুধুমাত্র পুুলিশ সদস্যরা মাস্ক বিতরণ করেছেন। গত দুদিন ধরে এই কার্যক্রমও চোখে পড়ছে না। অথচ মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরিমানা করার নজিরও আগে ছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে করোনা ভয়াবহ রূপ ধারণ করলেও স্থানীয় প্রশাসন জরিমানা করে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মতো আইন প্রয়োগ করছে না। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ মিলছে না। সাধারণ শয্যাও পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। কেবিন, এইচডিইউ সর্বত্রই করোনা রোগীর চাপ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ দিনে ২৪ হাজার ৯৬৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে করোনা আক্রান্ত ২২৭ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এরমধ্যে ২০শে মার্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৬৮ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ২৬ জন। শনাক্তের হার ছিল ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
২১শে মার্চ শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ১৭২ জন রোগী। মৃত্যুবরণ করেছেন ২২ জন। শনাক্তের হার ছিল ১০ দশমিক ২৯ শতাংশ।
২২শে মার্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৮০৯ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ৩০ জন। শনাক্তের হার ছিল ১১ দশমিক ১৯ শতাংশ।
২৩শে মার্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৫৫৪ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
২৪শে মার্চ শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৫৬৭ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ২৫ জন। শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
২৫শে মার্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৫৮৭ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৪ জন। শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ২৬ শতাংশ।
২৬শে মার্চ শনাক্ত হয়েছে ৩৭৭৭ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩৩ জনের। শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
সর্বশেষ গতকাল ২৭শে মার্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩৬৭৪ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঢাকার করোনা ডেডিকেটেড সরকারি হাসপাতালের ১০৮টি আইসিইউ শয্যার ১০৫টিতে রোগী। এরমধ্যে সরকারি কুয়েত মৈত্রী-বাংলাদেশ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বড় সরকারি পাঁচ হাসপাতালেই আইসিইউ’র কোনো শয্যা খালি ছিল না।
এর বাইরে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে ১টি, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে ২টি ও রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ২টি শয্যা খালি ছিল। সবমিলিয়ে ঢাকার করোনা ডেডিকেটেড ৮টি সরকারি হাসপাতালে মাত্র ৫টি আইসিইউ শয্যা খালি ছিল। এর বাইরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল করোনা ডেডিকেটেড হলেও এই দুই হাসপাতালে কোনো আইসিইউ সেবা নেই। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা দ্রুতই পূর্ণ হচ্ছে।
গতকাল পর্যন্ত ঢাকার করোনা ডেডিকেটেড ৯টি বেসরকারি হাসপাতালের ১৮৮টি আইসিইউ শয্যার ১৪৩ শয্যাতে রোগী ভর্তি ছিলেন। শয্যা খালি ছিল ৪৫টি। বেসরকারি আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, আসগর আলী হাসপাতাল, স্কয়ার হাসপাতাল, ইবনে সিনা হাসপাতাল, ইউনাইটেড হাসপাতাল, এভার কেয়ার হাসপাতাল, ইম্পালস হাসপাতাল, এএমজেড হাসপাতাল ও বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে প্রতিটি হাসপাতালের আইসিইউ শয্যাতে প্রতিদিনই জটিল রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন।
এদিকে আইসিইউ শয্যার পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের সাধারণ করোন শয্যাতে রোগীদের চাপ বাড়ছে। সরকারি হাসপাতালের কেবিন, এইচডিইউ, সাধারণ শয্যাতে রোগী চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা। তথ্যমতে, ঢাকার করোনা ডেডিকেটেড ১০টি সরকারি হাসপাতালে সাধারণ শয্যা আছে মোট ২ হাজার ৪০১টি। এর মধ্যে রোগী ভর্তি আছেন ১ হাজার ৯৪৮ জন। শয্যা খালি আছে মাত্র ৪৫৩টি। এছাড়া বেসরকারি ৯টি হাসপাতালে শয্যা আছে ৯২৮টি।
এসব শয্যায় রোগী ভর্তি আছেন ৫১৪ জন। শয্যা খালি আছে ৪১৪টি। সরকারি হাসপাতালের মধ্যে কুয়েত মৈত্রী-বাংলাদেশ হাসপাতালের ১৬৯টি শয্যায় ৯৩ জন রোগী ভর্তি। খালি শয্যা ৭৬টি। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ২৭৫টি সাধারণ শয্যা থাকলেও এই হাসপাতালে ৪২১ জন রোগী ভর্তি আছেন। হাসপাতালটিতে ১৪৬ জন অতিরিক্ত রোগী ভর্তি।
শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের ৮০টি শয্যায় ৪২ জন রোগী ভর্তি। খালি আছে ৩৮টি শয্যা। সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ৯০টি শয্যায় ৫১ জন রোগী ভর্তি। ৩৯টি শয্যা খালি আছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮৮৩টি সাধারণ শয্যায় রোগী ভর্তি ৬৪২ জন। এই হাসপাতালে ২৪১টি শয্যা খালি আছে।
মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১০টি শয্যায় ২৫৬ জন রোগী ভর্তি আছেন। হাসপাতালটিতে ৫৪টি শয্যা খালি আছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৪টি শয্যায় ১৪২ জন রোগী ভর্তি। ৯২টি শয্যা খালি আছে এই হাসপাতালে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০০টি শয্যায় ৬৯ জন রোগী ভর্তি। এই হাসপাতালে ৩১টি শয্যা খালি আছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ