“শেষ সীমা অতিক্রম করলে কঠোর ব্যবস্থা নিবো আমরা” : পুতিন

প্রকাশিত: 8:00 AM, April 22, 2021

“শেষ সীমা অতিক্রম করলে কঠোর ব্যবস্থা নিবো আমরা” : পুতিন

নিউজ ডেস্কঃ পশ্চিমাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ‘শেষ সীমা’ অতিক্রম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল বুধবার জাতির উদ্দেশে বার্ষিক ভাষণে পুতিন এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ইউক্রেন নিয়ে চলমান সংকটের পাশাপাশি নিজের দেশের বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনিকে নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে এই হুঁশিয়ারি দিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

পশ্চিমারা ধারাবাহিকভাবে ‘অন্যায়ভাবে’ রাশিয়াকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন পুতিন।

ভাষণে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় রাশিয়ার প্রচেষ্টা এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কল্যাণের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন ভ্লাদিমির পুতিন। তবে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে রাশিয়া এবং সাবেক সোভিয়েত প্রতিবেশী দেশ বেলারুশ ও ইউক্রেনে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টার অভিযোগ করেন তিনি। পুতিন বলেন, ‘অন্যায্য নিষেধাজ্ঞা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে: বেলারুশে একটি অভ্যুত্থান চেষ্টা।’

গত বছর বেলারুশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অনিয়মের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। ওই নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোকে সমর্থন দিয়ে আসছেন পুতিন। বৃহস্পতিবার মস্কোয় দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

গত ১৭ এপ্রিল বেলারুশ কর্তৃপক্ষ দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কোকে হত্যার একটি ষড়যন্ত্র তারা নস্যাৎ করেছেন। কথিত এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত অভিযোগে বেলারুশের দুই নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি)।

প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতে কিছু কিছু পশ্চিমা দেশ ‘শেয়ালের মতো আচরণ’ করছে। ‘আমরা সম্পর্ক নষ্ট করতে চাই না। কিন্তু কেউ যদি আমাদের শুভ চিন্তাকে দুর্বলতা মনে করে তাহলে আমাদের পাল্টা পদক্ষেপ হবে বহুগুণে বেশি, দ্রুত ও কঠোর। প্রতিটি ক্ষেত্রে শেষ সীমা (রেড লাইন) কোথায় তা আমরা নির্ধারণ করব।’

রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ এলাকাগুলোর কাছাকাছি এক লাখের বেশি সৈন্য সমাবেশ করেছে বলে খবর প্রকাশের পর এ নিয়ে উত্তেজনা বেড়েছে। এসব সৈন্যদের একটি বড় অংশ রয়েছে ক্রিমিয়ায়। এই উপত্যকাকে ২০১৪ সালের মার্চে ইউক্রেন থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় রাশিয়া।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ তুলে রাশিয়ার ১০ জন কূটনীতিককে বহিষ্কার করে। হুঁশিয়ারি দিয়ে পুতিন বলেন, ‘রাশিয়ার বিরুদ্ধে উসকানির সংগঠকেরা এমনভাবে অনুতপ্ত হবেন, যা তাঁরা আগে কখনো হয়নি।’

পুতিনের ভাষণের প্রথম অংশে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপের ওপর আলোকপাত করা হয়। মহামারি মোকাবিলায় দেশের কোটি কোটি মানুষের সামাজিক সংহতির প্রশংসা করেন তিনি।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাস থেকে সুরক্ষায় টিকা গ্রহণ সবচেয়ে জরুরি বলে মন্তব্য করেন পুতিন। রাশিয়ার সব নাগরিকের প্রতি টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই মহামারিকালে পুতিন মূলত রাজধানী মস্কো সংলগ্ন তাঁর একটি বাসভবনে ছিলেন। এই ভাষণের মধ্য দিয়ে অনেক দিন পর প্রকাশ্য হলেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ