পরীমণি ও অভিযুক্তদের বক্তব্যের মিল-অমিল খোঁজা হচ্ছে

প্রকাশিত: 9:18 AM, June 18, 2021

পরীমণি ও অভিযুক্তদের বক্তব্যের মিল-অমিল খোঁজা হচ্ছে

নিউজ ডেস্কঃ

পরীমণি ইস্যু

চিত্রনায়িকা পরীমণির মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে গতকাল বৃহস্পতিবারও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল পর্যন্ত এ মামলার মূল আসামি ব্যবসায়ী ও জাতীয় পার্টি নেতা নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমণিকে শুধু চড় মারার কথা স্বীকার করলেও ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টার কথা অস্বীকার করছেন। তবে পুলিশ অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি সিসিটিভির ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তদন্ত করে পরীমণি ও আসামিদের বক্তব্যের মিল-অমিল খতিয়ে দেখছে। ঘটনার রাতে আসলে কী ঘটেছিল, তা আরও নিশ্চিত হতে ঢাকা বোট ক্লাবের স্টাফদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। তদন্ত-সংশ্নিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, গ্রেপ্তার পাঁচজনকে নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমরা পরীমণির সঙ্গেও কথা বলেছি। পরস্পরের বক্তব্যে কোনো ফারাক রয়েছে কিনা তা জানার চেষ্টা চলছে।
পরীমণিকে ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টার মামলায় সোমবার গ্রেপ্তার করা হয় নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমি, লিপি আক্তার, সুমি আক্তার ও নাজমা আমিন স্নিগ্ধাকে। তারা এখন ডিবির রিমান্ডে রয়েছেন।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, রিমান্ডে নাসির উদ্দিন তার মতো করে ঢাকা বোট ক্লাবের ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। নাসিরের ভাষ্য, পরীমণি ক্লাবের কাউন্টারে থাকা ব্লু লেভেলের একটি মদের বোতল নিয়ে যেতে চান। এতে তিনি বাধা দিলে বাগ্‌বিতণ্ডার সূত্রপাত হয়। এর জের ধরে পরীমণির কস্টিউম ডিজাইনার ফরিদুল করিম জিমি বোতল ভাঙচুর করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সামলাতে পরীমণিকে চড় মারেন নাসির।
এদিকে, অমির আশকোনার সিঙ্গাপুর ট্রেনিং সেন্টার নামের রিক্রুটিং অফিসে অভিযান চালিয়ে এরই মধ্যে শতাধিক ব্যক্তির পাসপোর্ট জব্দের ঘটনায় গ্রেপ্তার দু’জন বাছির ও মশিউরকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে দক্ষিণখান থানা পুলিশ। অমিসহ তিনজনকে আসামি করে পাসপোর্ট অপরাধ আইনে মামলা হয়েছে।
দক্ষিণখান থানার একজন কর্মকর্তা জানান, অমির ব্যাপারে বাছির ও মশিউর তেমন কোনো তথ্য দিচ্ছেন না। তারা কেবল বলছেন, ‘অমি তাদের বস। তারা বেতনভোগী কর্মচারী। তার অপকর্মের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
দক্ষিণখান থানার ওসি শিকদার মোহাম্মদ শামীম হোসেন বলেন, অমির অফিস থেকে যে পাসপোর্ট জব্দ হয়েছে তাদের সবাইকে ডাকা হবে। তাদের অভিযোগ শোনা হবে।
এদিকে, গতকাল মিন্টো রোডে অপর এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, গুলশান অল কমিউনিটি ক্লাবে পরীমণির ভাঙচুরের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীমণির অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু মামলাটি চলমান, এ ক্ষেত্রে সবকিছু জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আসবে। প্রয়োজনে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ হবে। জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত শেষে বিষয়গুলো পাওয়া যাবে।
পুলিশের অপর এক কর্মকর্তা জানান, পরীমণির ঘটনায় যাদের নাম আসছে এমন কয়েকজনের অর্থের উৎস খোঁজা হবে। বিশেষ করে অমিসহ তার চক্রের কেউ বিদেশে অর্থ পাচার করেছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে দুবাই ও মালয়েশিয়ায় নামে-বেনামে অমির সম্পদ থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে।
অমির বিরুদ্ধে আরও এক মামলা :তুহিন সিদ্দিকী অমির বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হয়েছে। রাজধানীর দক্ষিণখান থানায় গতকাল তার বিরুদ্ধে মানব পাচার মামলাটি করা হয়। মামলার বাদী অমির প্রতারণার শিকার একজনের স্বজন আব্দুল কাদির। এ মামলায় অমি ছাড়াও আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন- জসিম মাস্টার, সালাউদ্দিন, মোস্তফা ও পারভেজ। এর আগে অমির বিরুদ্ধে পরীমণিকে ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টা মামলা ও পাসপোর্ট অপরাধ আইনে মামলা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা জোনের ডিসি সাইফুল ইসলাম জানান, এজাহারে অভিযোগ করা হয় ট্রলিম্যানের কাজের জন্য প্রতি মাসে ১ হাজার ৬৫০ দিরহাম করে পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাদীর দুই স্বজন শাহীন আলম ও হৃদয় মিয়াকে দুবাই পাঠান অমি ও তার সহযোগীরা। এর বিনিময়ে জনপ্রতি ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তবে দুবাই গিয়ে দেখেন কাজ নয়, ভ্রমণ ভিসায় তাদের পাঠানো হয়েছে। আশকোনায় সিঙ্গাপুর ট্রেনিং সেন্টারের মাধ্যমে এভাবে আরও অনেককে প্রতারণা করে দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া পাচার করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন অমি ও তার সঙ্গীরা। এ ছাড়া ইদ্রিস আলী নামে আরও একজনকে ওয়েলডিং ভিসায় দুবাই পাঠানোর কথা বললেও তাকে ছয় মাস ধরে ঘোরাচ্ছেন।