‘কাউকে ক্ষমতায় বসানো বা নামানো হেফাজতের কাজ নয়’

নিউজ ডেস্কঃ হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা নূরুল ইসলাম জিহাদী বলেন, কাউকে ক্ষমতায় বসানো বা নামানো হেফাজতে ইসলামের কাজ নয়। জাতীয় নির্বাচন তো দূরের কথা, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও হেফাজতের কোনো প্রার্থী নেই।

শনিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলনে এসব কথা জানান হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদী। এসব চলমান সংকট নিরসনে সরকারের কাছে ৪ দফা দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। হেফাজতের নায়েবে আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, হেফাজত অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হলে অনুপ্রবেশকারীদের কাছ থেকে সাবধান থাকা উচিত। হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত নয়- এমন সাধারণ আলেমদের মুক্তির ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু জামিনের বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রক্রিয়াটা ত্বরান্বিত করবে। কুরআন-সুন্নাহ বাইরে কেউ প্রোপাগান্ডা ছড়াতে চাইলে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। শুধু মুসলমান নয়, কারো বিশ্বাসের প্রতি অমর্যাদা করতে দেব না।

হেফাজতের দাবিগুলো হলো:

১. আল্লাহ ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, কুরআন-সুন্নাহ তথা ইসলাম অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে মহান জাতীয় সংসদে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আইন পাশ করতে হবে।

২. কাদিয়ানি সম্প্রদায় (আহমদিয়া জামাত) কুরআন-হাদিস-ইজমা-কিয়াস ও সারা বিশ্বের ওলামা-মাশায়েখ এবং মুফতিদের সর্বসম্মত ফতোয়া মোতাবেক কাফের। তারা মুসলমান না হয়েও মুসলমানদের লেবাসে সরলপ্রাণ মুসলমানদেরকে ঈমানহারা করছে। দেশে তাদের ভ্রান্ত মতবাদ প্রচারণার মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে অরাজক পরিস্থিতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্ত করছে। সুতরাং কাদিয়ানিদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা এবং তাদের যাবতীয় অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।

৩. বিভিন্ন মামলায় এখন পর্যন্ত অনেক নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা কারাগারে আটক আছেন। কারাগারে থাকা আলেম-ওলামা ও হেফাজতের নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

৪. বাংলাদেশের সংবিধানে মীমাংসিত ও অপরিবর্তনশীল বিষয় ‘রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম’-কে কটাক্ষ করে কতিপয় দায়িত্বশীলদের কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্যে ক্ষোভ এবং ঘৃণা প্রকাশ করে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মহাসচিব মাওলানা নূরুল ইসলাম জিহাদী বলেন, ইসলামকে হেফাজতের লক্ষ্যে ২০১০ সালে মাওলানা আহমদ শফীর হাত ধরে হেফাজতে ইসলামের জন্ম। প্রতিষ্ঠার পর নানা ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করেও ১৩ দফায় অটল রয়েছে হেফাজত। এর বাইরে হেফাজতের কোনো কর্মকাণ্ড নেই।

নায়েবে আমীর মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাওলানা হারুন আজীজী নদভী। লিখিত বক্তব্যে মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, হেফাজতে ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দল নয়। জাতীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে হেফাজতের কোনো প্রার্থিতা নেই, প্রোপাগান্ডাও নেই। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে হেফাজতের সংশ্লিষ্টতা নেই। কাউকে ক্ষমতায় বসানো বা ক্ষমতা থেকে নামানো হেফাজতের এজেন্ডা নয়। হেফাজতের ব্যানারে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করারও কোনো সুযোগ নেই। হেফাজতে ইসলাম শুধু ইসলামি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও তাহজিবের বিকাশ এবং নাস্তিকতাবাদের প্রতিরোধে কাজ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *