করোনাকালেও অর্থনীতির শক্তি জোগাচ্ছে রেমিট্যান্স

প্রকাশিত: 1:01 PM, May 29, 2021

করোনাকালেও অর্থনীতির শক্তি জোগাচ্ছে রেমিট্যান্স

নিউজ ডেস্কঃ দেশের বর্তমান জিডিপিতে প্রায় ১২ শতাংশ অবদান রেখে চলা রেমিট্যান্স হয়ে উঠেছে দেশের উন্নয়ন ও মুদ্রার রিজার্ভ স্ফীতির উল্লেখযোগ্য অংশীদার। করোনাকালে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তো। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স সেই বিপর্যয় থেকে দেশকে রক্ষা করেছে। শুধু আর্থিকভাবেই নয়, করোনা মোকাবিলায় সরকারের মনোবল ধরে রাখতেও বড় ভূমিকা রেখেছে প্রবাসীদের পাঠানো রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স। রেমিট্যান্সের কারণেই তারল্যসংকট কাটাতে পেরেছে ব্যাংকগুলো। রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়ায় করোনাকালেও মানুষ বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চয় অব্যাহত রাখতে পেরেছে। রেমিট্যান্সের টাকায় তৈরি হয়েছে ছোট ছোট উদ্যোক্তাও। শক্তিশালী অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে গ্রামীণ অর্থনীতি। রেমিট্যান্সে ভর করে বাংলাদেশের রিজার্ভ এখন ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির যে কারণগুলো দেখানো হয়েছে, তার মধ্যে প্রধান একটি হচ্ছে প্রবাসী আয়। কাঁচামাল আমদানির খরচ বাদ দিলে তৈরি পোশাক খাতের চেয়ে তিন গুণ বেশি নিট বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স থেকে। রেমিট্যান্স হলো দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি এবং উন্নয়নের ভিত্তি ও অন্যতম চালিকাশক্তি। প্রবাসী এসব শ্রমিক যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠাচ্ছেন, তা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের অর্ধেক। রেমিট্যান্স হলো দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি এবং উন্নয়নের ভিত্তি ও অন্যতম চালিকাশক্তি।

 

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ক্রমেই কমতে থাকে। অনেকেই বলেছিলেন, করোনা মহামারির কারণে রেমিট্যান্সের প্রবাহ ক্রমান্বয়ে কমেছে, যা ভবিষ্যতে আরো কমতে থাকবে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে করোনা চলাকালীন মে থেকে দেশের রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়তে থাকে, যা এখন পর্যন্ত বলবত্ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০১৯ সালের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের তুলনায় ২০২০ সালের একই মাসগুলোতে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে প্রায় ৬৩, ৩৬ ও ৪৬ শতাংশ।

নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর মধ্যে রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে সপ্তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। দ্য গ্লোবাল নলেজ পার্টনারশিপ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, করোনার মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রেমিট্যান্স কিছুটা কমলেও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ভালো রেমিট্যান্স এসেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২০ সালে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর মধ্যে রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে শীর্ষস্থানে ছিল ভারত। গত বছর দেশটিতে রেমিট্যান্স এসেছে ৮৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। দ্বিতীয় স্থানে ছিল চীন। দেশটি রেমিট্যান্স পেয়েছে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে মেক্সিকো (৪৩ বিলয়ন ডলার), চতুর্থ ফিলিপাইন (৩৫ বিলিয়ন ডলার), পঞ্চম মিশর (৩০ বিলিয়ন ডলার) ও ষষ্ঠ পাকিস্তান (২৬ বিলিয়ন ডলার)।

এর পরই রয়েছে বাংলাদেশ। করোনার মধ্যেও গত বছর বাংলাদেশে প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে; যা মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। এর আগের বছর, অর্থাত্ ২০১৯ সালে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারের। নিম্ন ও মধ্য আয়ের এই দেশগুলোর এই তালিকায় বাংলাদেশের পরে, অর্থাত্ অষ্টম স্থানে রয়েছে নাইজেরিয়া। গত বছর নাইজেরিয়া ১৭ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পেয়েছে। এর পরে রয়েছে ভিয়েতনাম ও ইউক্রেন।

বিশ্নেষকেরা মনে করেন, রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের দেওয়া প্রণোদনা এবং করোনায় বিশ্বব্যাপী সুদের হার কমে যাওয়াসহ নানা কারণে প্রবাসীদের অনেকে জমানো টাকা দেশে পাঠানোয় সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে রেমিট্যান্সের বিপরীতে দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। এতে করে আগে যারা হুন্ডি বা অবৈধ চ্যানেলে দেশে অর্থ পাঠাতেন, তাদের অনেকেই এখন ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাচ্ছেন।