বেসরকারি খাত রিজার্ভ থেকে ঋণ চাইছে

প্রকাশিত: 12:31 PM, April 8, 2021

বেসরকারি খাত রিজার্ভ থেকে ঋণ চাইছে

নিউজ ডেস্কঃ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে সরকারের অগ্রাধিকার পাওয়া উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারাও ঋণ নিতে চান। এ ব্যাপারে ওরিয়ন গ্রুপের একটি আবেদন ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা পড়েছে।

বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন (বিআইপিপিএ) রিজার্ভ থেকে এ খাতে ঋণ চেয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আবেদন করেছে। এসব বিষয়ে কয়েকজন উদ্যোক্তা গত মঙ্গলবার সরকারের উচ্চপর্যায়ে একটি বৈঠক করেছেন।

এদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় অব্যাহতভাবে ঋণ দিলে সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) থেকে এমন সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে।

তারপরও সরকার ইতোমধ্যে রিজার্ভ থেকে ঋণ দিতে বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (বিআইডিএফ) গঠন করেছে। এ তহবিল থেকে ইতোমধ্যে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষকে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি হয়েছে। এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংক এখন কাজ করছে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, রিজার্ভ থেকে ঋণ দিলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকির আশঙ্কা আছে। সে বিষয়টি এখনও ভেবে দেখা দরকার। চলমান প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে যেভাবে ঋণ দেয় সে প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেয়া উচিত।

সূত্র জানায়, বিআইডিএফের আওতায় বছরে ২০০ কোটি ডলার বা ১৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা উন্নয়ন প্রকল্প ঋণ দেয়া হবে। এর মধ্যে একটি সরকারি প্রকল্পে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা দেয়ার চুক্তি হয়েছে। বছর হিসাবে ওই তহবিলে আরও ১১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা থাকবে।

ওই অর্থের মধ্যে কিছু অর্থ বেসরকারি খাতের বিশেষ করে সরকারের অগ্রাধিকার পাওয়া বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে দেয়ার প্রস্তাব করেছে সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন। এ বিষয়ে তারা একটি আবেদন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে করেছে। এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইপিপিএ) প্রেসিডেন্ট ইমরান করিম বলেন, রিজার্ভ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভালো প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন হোক আমরা এটা চাই। তবে এ টাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে যাতে শৃঙ্খলা বজায় থাকে সেটা কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে।

যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রিজার্ভের অর্থ উদ্যোক্তারা পাবেন সেটি যাতে খুব বেশি শক্তিশালী হয়। এমন প্রক্রিয়া করতে হবে যাতে রাষ্ট্রের টাকা নিয়ে ফেরত দিতে বাধ্য হয়। ভালো উদ্যোক্তাদের বেছে বেছে ঋণ দিতে হবে। তাহলে খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। কারণ রিজার্ভ থেকে ঋণ দেয়ার বিষয়টি সারা বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নজরে রাখবে।

সূত্র জানায়, এর আগে বেসরকারি খাতের ওরিয়ন গ্রুপের কোম্পানি ওরিয়ন পাওয়ার ইউনিট-২ এর জন্য রিজার্ভ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় ৯০ কোটি ৬১ লাখ ৭০ হাজার ডলার বা ৭ হাজার ৬১২ কোটি টাকা ঋণ চাওয়া হয়েছে। ৭ বছর মেয়াদি এ ঋণের সুদের হার প্রস্তাব করা হয়েছে ৪ শতাংশ। এ ব্যাপারে প্রথমে এজেন্ট হিসাবে কাজ করেছে রূপালী ব্যাংক। পরে রূপালী ব্যাংক ব্যবস্থাপনা দুর্বলতার কারণে এজেন্ট হতে অস্বীকার করলে অগ্রণী ব্যাংক কাজ শুরু করে। পরে আবার তা স্থগিত হয়ে যায়।

সূত্র জানায়, উদ্যোক্তাদের একটি গ্রুপ গত মঙ্গলবার সরকারের উচ্চপর্যায়ে একটি বৈঠক করেছে। বৈঠকে তারা রিজার্ভ থেকে ঋণ নিলে প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা সুবিধার কথা তুলে ধরেছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক নিরাপদ মান অনুযায়ী কমপক্ষে ৩ মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান রিজার্ভ রাখতে হয়। বাংলাদেশের প্রতি মাসে গড়ে আমদানি ব্যয় হয় ৫০০ কোটি ডলার। এ হিসাবে ৩ মাসের জন্য দেড় হাজার কোটি ডলার রিজার্ভ থাকলে তা ঝুঁকিমুক্ত। কিন্তু সরকার এখন ৬ মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান রিজার্ভ রাখতে চায়।

এ হিসাবে রিজার্ভ থাকা দরকার ৩ হাজার কোটি ডলার। কিন্তু দেশের রিজার্ভ এখন ৪ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার। যা দিয়ে ৯ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। এ কারণে সরকার থেকে মনে করা হচ্ছে, রিজার্ভ থেকে ঋণ দিলে তা ঝুঁকিতে পড়বে না। কেননা একদিকে সাধারণ নিরাপদ মাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ বেশি রিজার্ভ রেখে তারপর ঋণ দেয়া হচ্ছে।