পরীমণির জামিন আবেদন কেন দ্রুত নিষ্পত্তি হবে না: হাইকোর্ট

প্রকাশিত: 1:02 PM, August 26, 2021

পরীমণির জামিন আবেদন কেন দ্রুত নিষ্পত্তি হবে না: হাইকোর্ট
নিউজ ডেস্কঃ চিত্রনায়িকা শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনির জামিন আবেদনের ওপর অবিলম্বে অথবা আদেশের কপি পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে শুনানির কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করে গত ২২ আগস্টের দেওয়া আদেশ কেন বাতিল করা হবে না, তারও কারণ জানাতে বলা হয়েছে। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতকে পয়লা সেপ্টেম্বরের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী পয়লা সেপ্টেম্বর রুলের ওপর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, আমরা এই মুহূর্তে জামিন দিচ্ছি না। তবে রুল দিচ্ছি। এরপর আদেশ দেন আদালত। এই আদেশের তথ্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবহিত করতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের প্রতি (ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতে পরীমনির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না ও মো. মজিবুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান।

রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা মাদক মামলায় পরীমনির জামিন আবেদনের ওপর আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য করে দেওয়া আদেশ চ্যালেঞ্জ করে বুধবার হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। ওই আবেদনে পরীমনির জামিন চাওয়া হয়। আজ এ আবেদনের ওপর শুনানি হয়।

শুনানিতে অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না বলেন, পরীমনিকে গ্রেপ্তারের ২৬ ঘণ্টা পর মামলার এজাহার দাখিল করা হয়েছে। এ ছাড়া তাকে রিমান্ডে নেওয়ার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মানা হয়নি।

অ্যাডভোকেট মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত গত ২২ আগস্ট এক আদেশে ১৩ সেপ্টেম্বর জামিন আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছেন। তবে এই শুনানি এগিয়ে আনতে পরদিন ২৩ আগস্ট পৃথক একটি আবেদন দেওয়া হলেও আদালত তা আমলেই নেয়নি। ২১ দিন দেরিতে জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করে দেওয়া আদেশ যথাযথ হয়নি। এ অবস্থায় আপনাদের কাছে জামিন চাচ্ছি।

জবাবে রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান বলেন, দায়রা জজ আদালতের ওই আদেশে বেআইনি কিছু নেই।

এ সময় হাইকোর্ট বলেন, দায়রা আদালতের আদেশে কিছু অনিয়ম হয়েছে। জামিন আবেদনের ওপর শুনানি এত দিন ঝুলিয়ে রাখা কি ঠিক হয়েছে? এত দিন পর শুনানির কী আছে? ঝুলিয়ে না রেখে খারিজ করতে পারতেন। আর তিনি শুনানির জন্য সময় না পেলে অতিরিক্ত দায়রা জজকে শুনানির জন্য দিতে পারতেন। কিন্তু তা দেননি। তবুও বলছি, প্রথা অনুযায়ী এসব ক্ষেত্রে (জামিন আবেদন) হাইকোর্ট ও দায়রা জজ আদালতের এখতিয়ার সমান। তাই আমরা এ মুহূর্তে জামিন দিচ্ছি না। রুল দিচ্ছি। আদেশে গত ২৩ আগস্ট দেওয়া আবেদন আদেশের কপি পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে শুনানির কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং গত ২২ আগস্ট দেওয়া আদেশ কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

গত ৪ আগস্ট রাতে প্রায় চার ঘণ্টার অভিযান শেষে বনানীর বাসা থেকে পরীমনি ও তার সহযোগী দীপুকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় পরীমনির বাসা থেকে বিভিন্ন মাদক জব্দ করা হয়। পরদিন ৫ আগস্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পরীমনি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দিপুর বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করে। এ মামলায় তিন দফা রিমান্ডে নেয় সিআইডি। রিমান্ড শেষে গত ২১ আগস্ট পরীমনিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমাম। ওই দিনই তাকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের কোয়ারেন্টিন সেন্টারে (রজনীগন্ধা ভবন) নেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই রয়েছেন পরীমনি। পরদিন ২২ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করেন পরীমনি। কিন্তু বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করে আদেশ দেন। এ অবস্থায় এ আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন পরীমনির আইনজীবী।