নিউইয়র্কে বিপাশার চিত্রকর্মের প্রদর্শনী

প্রকাশিত: 2:03 PM, February 7, 2021

নিউইয়র্কে বিপাশার চিত্রকর্মের প্রদর্শনী

নিউজ ডেস্কঃ  নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের প্রিমাভেরা আর্ট গ্যালারিতে জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও চিত্রশিল্পী বিপাশা হায়াতের চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনীর জন্য এসব চিত্রকর্ম উম্মুক্ত রাখা হয়েছে।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের কাছে জনপ্রিয় কয়েকটি জায়গার অন্যতম জ্যাকসন হাইটস। এ এলাকার ব্যস্ততম সড়ক ৭৪ স্ট্রিট। রুজভেল্ট অ্যাভিনিউতে ট্রেন থেকে নামলেই চোখে পড়ে এই সড়ক। প্যাটেল ব্রাদার্স আর আইএসপি বাদ দিলে আশপাশে বাংলাদেশিদের আধিপত্য চোখে পড়ে বেশি। সেই ৭৪ স্ট্রিটের টিডি ব্যাংকের বিপরীতে আইএসপির দোতলায় প্রিমাভেরার উদ্যোগে একটি নতুন আর্ট গ্যালারি হয়েছে যার নাম প্রিমাভেরা-গ্যালারি অব বিডি আর্ট। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই গ্যালারিতে রাখা হয়েছে বিপাশা হায়াতের আঁকা ২৪টি চিত্রকর্ম।

উদ্যোক্তারা বলছেন, বিপাশা হায়াতের চিত্রকর্ম দেখতে হলে আগে থেকে রিজার্ভেশন নিয়ে আসা ভালো। তাহলে সামাজিক দূরত্ব বজায়ে রাখা যায়। রিজার্ভেশনের ফোন নম্বর ৬৩১-৮০৫-৮০৫১।

জ্যাকসন হাইটসে তাঁর চিত্রকর্মের প্রদর্শনী নিয়ে কথা হয় বিপাশা হায়াতের সঙ্গে। নিউইয়র্কে তাঁর চিত্রকর্মের প্রদর্শনী নিয়ে অনুভূতি জানাতে গিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি খুবই উত্তেজিত যে জ্যাকসন হাইটসে একটা গ্যালারি হয়েছে. যেখানে বাংলাদেশি চিত্রশিল্পীদের চিত্রকর্ম জায়গা পাচ্ছে। জ্যাকসন হাইটস বাঙালিদের প্রাণকেন্দ্র। এ রকম জায়গাতেই একটা আর্ট গ্যালারি খুব দরকার ছিল। তাই প্রিমাভেরা কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই। দর্শকের সঙ্গে আর্টিস্টের যে কথোপকথন, সেটা এখন আরও অর্থবহ হবে।

বিপাশা তাঁর এই চিত্রকর্মের বৈশিষ্ট সম্পর্কে জানাতে গিয়ে বলেন, আমার এই সিরিজের নাম রাখা হয়েছে ‘ইনসাইডার’। আমি বলব, এটা প্রিমাভেরা কর্তৃপক্ষের দূরদৃষ্টির নিদর্শন। আমার ভাবনার সঙ্গেও নামটা মিলে গেছে। আমি আসলে ছবি আঁকি না, ছবি প্রকাশ করি। আমি ছবির মাধ্যমে আমার ভেতরের ভাবনাগুলো দৃশ্যমান করার চেষ্টা করি। আমি মনে করি, আমরা যখন কথা বলি, তার চেয়ে বেশি কথা বলি যখন কিছু বলি না। আমি যখন ছবি আঁকি, তখন আমাকে চোখ বন্ধ করে ভাবতে হয়। ওই মুহূর্তে আমার ভেতরে যে ভাবনা চলে, সেটিকেই আমি ক্যানভাসে আনার চেষ্টা করি। তাই, এবারের ছবিগুলোতে যেমন রং পাওয়া যাবে, তেমন বৈরী সময়ের সঙ্গে যুদ্ধটাও পাওয়া যাবে।

প্রিমাভেরায় বিপাশার চিত্রকর্মের প্রদর্শনী

এই চিত্রশিল্পী বলেন, কিছু ছবি আছে যেখানে আমি এই পৃথিবীর প্রাচীনতম মানুষগুলোর ভাষা আবিষ্কারের চেষ্টা করেছি। কারণ, আমি মনে করি, সভ্যতার যাত্রায় প্রাচীনতম যে মানুষগুলো ছিল, তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো পার্থক্য নেই। তাই, তাদের বোঝার জন্য তাদের ভাষা বুঝতে চাই। পাশাপাশি নিজেদের বুঝতে আমাদের ভাষাগুলো আবিষ্কার করতে চাই।

প্রিমাভেরায় চিত্রকর্ম দেখতে এলে দর্শনার্থীদের সঙ্গে দেখা হবে এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর। এমন ইঙ্গিতও দিলেন তিনি। বললেন, চিত্রকর্ম দেখতে এলে তাঁর সঙ্গে দুভাবে দর্শনার্থীদের সাক্ষাৎ হতে পারে। এক. চিত্রকর্মের মাধ্যমে। ভাবনার আদান–প্রদানের মাধ্যমে। দুই. সরাসরিও দেখা হতে পারে।

কাজের ব্যস্ততা সম্পর্কে বিপাশা বলেন, এখন আমার তিনটি কাজ—নাটক লেখা, ছবি আঁকা ও পড়ালেখা করা। রোমান সাম্রাজ্য আগে পড়ে সে সভ্যতার উত্থান-পতন, তার সঙ্গে ধর্মের যে প্রভাব এবং সংমিশ্রণ সেটা নিয়ে পড়ার চেষ্টা করছি। এখান থেকে নিজেকে ও নিজের কাজগুলোকে আবিষ্কারের চেষ্টা করছি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী বলেন, এখন তো আসলে বেশির ভাগ পরিকল্পনাই থাকে বাচ্চাদের কেন্দ্র করে। প্রাচীন সমাজের গতি–প্রকৃতি কী করে আমার কাজে আনতে পারি, সেটা নিয়ে গবেষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে। আপনি চিন্তা করলে দেখবেন, যেকোনো সভ্যতার উত্থানের পেছনে কিন্তু আরেকটি সভ্যতার পতনের ধারাবাহিকতা থাকে। এটা যে কত বেদনার ও যন্ত্রণার, সেটা এর মধ্যে পুরোপুরি ডুবে না গেলে বোঝা যায় না। আমি মনে করি, প্রত্যেকেরই সেটা জানা খুব জরুরি। সামনের সময়ে এটি নিয়ে কাজ করতে চাই। বিপাশা বলেন, সবাইকে বলব, প্রিমাভেরা নিউইয়র্কে একটি নতুন গ্যালারি। চলুন, আমরা সবাই ছবি দেখতে যাই। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে চিত্রকর্মে আগ্রহী করে তুলি। তাহলে তাকে ভবিষ্যৎ বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য উপযুক্ত করে তৈরি করা হবে।

এর আগে ম্যানহাটনের নিউইয়র্ক ডিজাইন সেন্টারের ট্রান্সফর্ম গ্যালারিতে ২০১৯ সালের মে থেকে ২০২০ মে পর্যন্ত বিপাশা হায়াতের একক চিত্র প্রদর্শনী হয়েছিল। তাঁর চিত্রকর্ম প্রদর্শনের পর শিগগিরই প্রিমাভেরায় আসছে ‘আইরিসিস’–এর পোশাক প্রদর্শনী।