” ধূমপায়ী ও নিরামিষভোজীদের করোনা-ঝুঁকি কম” : সমীক্ষা (সিএসআইআর)

প্রকাশিত: 9:26 AM, April 26, 2021

” ধূমপায়ী ও নিরামিষভোজীদের করোনা-ঝুঁকি কম” : সমীক্ষা (সিএসআইআর)

নিউজ ডেস্কঃ  ধূমপায়ী এবং নিরামিষভোজীদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কম বলে সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে। সায়েন্টিফিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর) এই সমীক্ষা করেছে বলে জানা গেছে। করোনা মূলত রোগীর ফুসফুসে সংক্রমিত হয়। তবে এই সমীক্ষা অনুযায়ী ধূমপান যাঁরা করেন তাঁরা তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত। এ ছাড়া যাদের রক্তের গ্রুপ (ও) তারাও কম ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এ ছাড়া এই সমীক্ষা বলছে যাঁরা নিরামিষভোজী তাঁরা ফাইবার জাতীয় খাবার বেশি খান। ফলে কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে শরীরে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাও বেশি তৈরি হয়। কারণ ফাইবার জাতীয় খাবারের মধ্য়ে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান থাকে। গোটা ভারতে এই সমীক্ষাটি করেন ১৪০ জন চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা। মূলত কার শরীরে কতটা অ্যান্টিবডি রয়েছে এবং আক্রান্ত হলে কে কতটা লড়তে সক্ষম তা দেখার জন্যই এই সমীক্ষা করা হয়।

১০৪২৭ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর এই সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়। এরা প্রত্যেকেই শহর ও শহরতলির বাসিন্দা। এদের ওপর সমীক্ষা করে দেখা গেছে, যাঁরা ধূমপান করেন ও নিরামিষ খাবার খান, তাঁদের মধ্যে কভিড-১৯-এর সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা বেশি। এর আগে নিউ ইয়র্ক, চীন, ইতালি ও ফ্রান্সেরও দুটি সমীক্ষায় এই একই ফলাফল উঠে এসেছিল। সেখানেও বলা হয়েছিল ধূমপায়ীদের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। দেখা গিয়েছিল আক্রান্তদের মধ্যে অন্যদের তুলনায় ধূমপায়ীদের সংখ্যা কম।

সমীক্ষায় আরো দেখা গেছে যে রক্তের গ্রুপ ‘ও’ যাদের রয়েছে তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি কম। তবে ‘বি’ এবং ‘এবি’ যাদের, তারা উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। রক্তের গ্রুপের ধরনের ‘এবি’ যাদের, তারা করোনা পজিটিভের সর্বাধিক ঝুঁকিতে রয়ছেন। এর পরের অবস্থানেই রয়েছে ‘বি’ গ্রুপের ধারকরা। গবেষকরা আরো জানিয়েছেন যে রক্তের ​​গ্রুপ ‘ও’ কম করোনা পজিটিভিটি হারের সঙ্গে জড়িত।

চীনের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, যাদের ওপরে সমীক্ষা করা হয়েছে তাঁদের মধ্য়ে মাত্র ৬.৪ শতাংশ ধূমপান করেন। এর মধ্যেও অধিকাংশই আবার ধূমপান ছেড়ে দিয়েছিলেন কিছুদিন আগে। সেই গবেষণা থেকেও উঠে আসে ধূমপায়ীদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু পাশাপাশি চিকিৎসকরা এ-ও সতর্ক করেছেন যে ধূমপান করার সময় যেহেতু হাতের ব্যবহার করতে হয়, তাই সেখান থেকে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ধূমপায়ীরা যদি আক্রান্ত হন তাহলে শ্বাসকষ্টের সম্ভাবনাও বেশি থাকে।