করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচ দিন পর দাঁড়ালো শতাধিক

প্রকাশিত: 9:32 AM, April 26, 2021

করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচ দিন পর দাঁড়ালো শতাধিক

নিউজ ডেস্কঃ  দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দৈনিক মৃতের সংখ্যা পাঁচ দিন ধরে একশোর নিচে ছিল। কিন্তু গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় তা আবার একলাফে শতাধিক হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে মোট মৃত্যু ১১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তবে দৈনিক শনাক্ত নিচের দিকে নামছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আবার শনাক্ত বাড়লেও তিন হাজারের নিচেই আছে।

এর আগে গত ১৬ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দৈনিক মৃতের সংখ্যা ছিল এক শর ওপরে। এর মধ্যে গত ১৯ এপ্রিল ১১২ জনের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। পরদিন এই সংখ্যা কমে আসে ৯১-এ। গত শনিবার দেওয়া হিসাবে দৈনিক মৃতের সংখ্যা ছিল ৮৩। গতকাল তা আবার ১০১ জনে উঠে যায়। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে গেছে ১৮।

এই তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃতের সংখ্যা দুই সপ্তাহ ধরে এক শর কাছাকাছি ওঠানামা করছে।

আগের দিনের তুলনায় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু বাড়লেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ মৃত্যু অনেকটাই কমে আসবে। যদি সংক্রমণ আর ঊর্ধ্বমুখী না হয়, তবে মৃত্যু আর আপাতত খুব একটা বাড়ার আশঙ্কা নেই। তাঁদের মতে, এখন সংক্রমণ নিচে টেনে নামিয়ে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

গতকাল দেওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত দুই হাজার ৯২২ জন, সুস্থ হয়েছে চার হাজার ৩০১ জন। সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত সাত লাখ ৪৫ হাজার ৩২২ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ১১ হাজার  ৫৩ জন এবং সুস্থ হয়েছে ছয় লাখ ৫৭ হাজার ৪৫২ জন। দৈনিক শনাক্তের হার ১৩.৩৩ শতাংশ। সুস্থতার হার ৮৮.২১ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১.৪৮ শতাংশ।

গত শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৬৯৭। ওই সময়ে সুস্থ হয়েছে পাঁচ হাজার ৪৭৭ জন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১০১ জনের মধ্যে ৫২ জন পুরুষ ও ৪৯ জন নারী। অর্থাৎ নারী-পুরুষ মৃত্যুর ব্যবধান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে একেবারেই কাছাকাছি। অন্যদিকে বয়স বিবেচনায় মৃতদের মধ্যে আছে ১০ বছরের নিচের এক শিশু, ২১-৩০ বছরের তিনজন, ৩১-৪০ বছরের তিনজন, ৪১-৫০ বছরের ১১ জন, ৫১-৬০ বছরের ১৮ জন এবং ষাটোর্ধ্ব ৬৫ জন।

বিভাগের হিসাবে ঢাকার ৫৪ জন, চট্টগ্রামের ২৩ জন, সিলেটের আটজন, বরিশালের সাতজন, খুলনার পাঁচজন, রংপুরের দুজন, রাজশাহী ও ময়মনসিংহের একজন করে। মৃতদের মধ্যে ৬৯ জন সরকারি হাসপাতালে এবং ৩২ জন বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার বে-নজীর আহমেদ  বলেন, ‘গত চার-পাঁচ দিনের তুলনায় মৃতের সংখ্যা বাড়লেও এটাকে আমরা অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছি না। বিশেষ করে ১৫-২০ দিন আগে সংক্রমণ যে ঊর্ধ্বগতিতে ছিল, সেই আনুপাতিক হারে এমনই মৃত্যু হওয়ার কথা। তবে কয়েক দিন ধরে যেভাবে দৈনিক শনাক্ত নিচে নামছে, তাতে বৈজ্ঞানিকভাবে আমরা বলতে পারি যে এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ মৃত্যু অনেক নিচে নেমে আসবে। তা সত্ত্বেও ভয় হচ্ছে, আমরা চলতি নিম্নগতির সংক্রমণ আরো নিচে নামাতে সক্ষম হব, নাকি আবার ঘুরে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে যাবে। অর্থাৎ সংক্রমণ নিচে আটকে রাখাই আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। তা না হলে যখনই সংক্রমণ বেড়ে যাবে, তার ১৫ দিনের মাথায় মৃত্যু আবার সেই হারে বেশি দেখতে পাব—এটাই বিজ্ঞান। আমরা যদি এই বিষয়ের দিকে সতর্ক নজর না রাখি, তবে খুব একটা সুফল পাব না।’