করোনাভাইরাসের নতুন উপকেন্দ্র ইন্দোনেশিয়া

প্রকাশিত: 4:49 PM, July 18, 2021

করোনাভাইরাসের নতুন উপকেন্দ্র ইন্দোনেশিয়া
নিউজ ডেস্কঃ দ্রুত সংক্রামক ডেল্টা ভেরিয়েন্টের ব্যাপক বিস্তৃতিতে করোনা সংক্রমণের হারে ব্রাজিল ও ভারতকে পেছনে ফেলে ইন্দোনেশিয়া হয়ে উঠেছে করোনাভাইরাসের নতুন উপকেন্দ্র।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে প্রতিদিন ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ শনাক্ত হচ্ছেন। গত বুধবার দেশটিতে একদিনে রেকর্ডসংখ্যক ৫৪ হাজার ৫১৭ জন আক্রান্ত হন।

দেশটির হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় উপচে পড়ছে।  স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ সাধ্যমতো প্রচেষ্টা করলেও তা যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ করছেন দেশটির নাগরিকরা।

দেশটির স্বাস্থ্য সেবা কর্মকর্তারা বলছেন,  জাভায় সংক্রমণের মাত্রা যেভাবে বাড়ছে, তাতে আগামী কিছুদিনের মধ্যে মারাত্মক সঙ্কটে পড়তে যাচ্ছেন তারা। প্রয়োজনের তুলনায় স্বাস্থ্যকর্মী, ওষুধ ও অক্সিজেনের সরবরাহেও  ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বিশ্বের চতুর্থ জনবহুল এ দেশটিতে দেশটিতে প্রায় ২৭ লাখ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মে মাস অবধি ১৮১ জনের মৃত্যু হলেও জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে গড়ে ৯০০ মানুষ মারা গেছেন দেশটিতে।

হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়া করোনা সংক্রমণের শুরুতে বেশ ভালোভাবে সামাল দিতে পারলেও গত জুনে এসে তা আর পারেনি। ডেল্টা ভেরিয়েন্টের সংক্রমণের মাত্রা ক্রমশ বাড়তে শুরু করে।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সতর্ক করে বলেছে, ইন্দোনেশিয়া ‘কোভিড বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে উপনীত’।

ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বুদি গুনাদি সাদিকিন বলেন, গত ঈদের ছুটির পরপরই সেদেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বাড়তে শুরু করে। আর সেজন্য অতি সংক্রামক ডেল্টা ধরনই দায়ী, যা প্রথম ভারতে শনাক্ত হয়।

জুলাইয়ের ১০ তারিখ থেকে ইন্দোনেশিয়ায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরও আগেই লকডাউন জারি না করার চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে ইন্দোনেশিয়াকে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বলছে, ইন্দোনেশিয়ায় যত জনের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে, তার মধ্যে ২৭ শতাংশের বেশি পজিটিভ শনাক্ত হচ্ছে। এই হার এখন বিশ্বে অন্যতম বেশি। এখনও অনেক রোগীই নমুনা পরীক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, জাকার্তার বাসিন্দাদের প্রায় অর্ধেকই কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন, যা এই সমীক্ষা চালানোর সময় রাজধানীতে আক্রান্তের সরকারি হিসাবের ১২ গুণ বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া অনেক প্রদেশই উপযুক্ত সময়ে নিশ্চিত হওয়া রোগীদের আলাদা করতে পারছে না।

ইন্দোনেশিয়ায় মহামারী নিয়ন্ত্রণে আরেকটি বড় সংকট হলো বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার। কয়েক মাস ধরে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় কোভিড-১৯ চিকিৎসা ‘অকার্যকর’ বলে ভুয়া বার্তা ছাড়ানো হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো বলেছেন, মহামারীর এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে ইন্দোনেশিয়ার সামনে সবচেয়ে বড় জাগাতে পারে টিকা।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার ২৭ কোটি মানুষের মাত্র ১৫ শতাংশ এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের এক ডোজ টিকা পেয়েছে। আর পুরো দুই ডোজ টিকা পেয়েছে মাত্র ৬ শতাংশ।

ইন্দোনেশিয়া টিকার জন্য চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাক বায়োটেকের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করেছিল, যা অন্যান্য টিকার তুলনায় কম কার্যকর বলে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে। সেদেশে অন্তত ২০ জন চিকিৎসক সিনোভ্যাকের দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও করোনাভাইরাসে মারা গেছেন।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র মডার্নার ৪৫ লাখ ডোজ কোভিড টিকা পাঠিয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের ১৫ লাখ স্বাস্থ্যকর্মীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বুস্টার ডোজ হিসেবে ওই টিকা দেওয়া হবে।

ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাদিকিন জানিয়েছেন, তারা নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়িয়েছেন এবং এখন দিনে ২ লাখ ৩০ হাজার লোকের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে, গত ডিসেম্বরে এই সংখ্যা ছিলো ৩০ হাজার। এখন দিনে ৪ লাখ মানুষের নমুনা পরীক্ষার লক্ষ্য ঠিক করেছেন তারা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ