কথাবার্তায় ইমানের প্রকাশ

প্রকাশিত: 12:42 PM, September 19, 2021

কথাবার্তায় ইমানের প্রকাশ

ইসলামিক ডেস্কঃ চারিত্রিক উন্নতির পেছনে ভাষার ভূমিকা অনেক। চরিত্র তখনই সুদৃঢ় হয়, যখন এর ভিত্তি স্থাপিত হয় গভীর জ্ঞান এবং সঠিক পরিকল্পনার হাতে। আর জ্ঞানের সর্বপ্রকার প্রকাশ ঘটে ভাষার মাধ্যমে। এ কারণে সুন্দর কথোপকথন জরুরি। সুতরাং বক্তব্যের উদ্দেশ্য যত মহৎ হবে বক্তব্য ও কথোপকথন তত সুন্দর ও শ্রুতিমধুর হবে। তাই অর্থহীন বাক্যবিনিময় থেকে বিরত থাকা কর্তব্য। সেই সঙ্গে এ বিষয়গুলো মাথায় রাখা
 সর্বদা সত্য কথা বলা নিজের জন্য অত্যাবশ্যকীয় করে নেওয়া। মিথ্যা সব পাপের মূল। রাসুলে কারিম (সা.) ইরশাদ করেন, সবচেয়ে বড় খেয়ানত হলো তুমি তোমার মুসলমান ভাইকে এমন একটি কথা বললে, যা সে সত্য বলে মনে করল অথচ তা মিথ্যা। আবু দাউদ

 কথাবার্তায় ওইসব বিষয় যুক্ত করা, যে বিষয়ে পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস আছে। নিজের বক্তব্যের সঙ্গে কাজের মিল রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা। বক্তব্য ও কাজের বৈপরীত্য থেকে বিরত থাকা। অন্যথায় এতে সমাজে আমলহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। কথা ও কাজের বৈপরীত্যের নিন্দা করে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা মানুষকে ভালো কথা শোনাও অথচ নিজেরা তা ভুলে যাও!’ সুরা বাকারা : ৪৪

 বাক্য প্রয়োগে কৃত্রিমতা ও লৌকিকতা থেকে মুক্ত থাকা। কেননা এসব মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টির পরিবর্তে সম্পর্কের ভাঙন সৃষ্টি করে। নিজের সত্তাকে অন্যের সামনে সহজ-সরলরূপে প্রকাশের চেষ্টা করতে হবে।

 মন ভাঙে, হতাশা এবং ভীতির সৃষ্টি করে এ ধরনের বাক্যের পরিবর্তে আশা সঞ্চারক এবং কল্যাণকর কথা বলা। বক্তার উদ্দেশ্য যদি হয়, মানুষের কল্যাণ কামনা তাহলে সে সামাজিক জীবনে মানুষের জন্য উপকারী ব্যক্তি হিসেবে প্রমাণিত হবে। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘বান্দার জবান থেকে কোনো সময় ভালো কথা বের হয়, যা আল্লাহর পছন্দের কারণ। বান্দা এটাকে তেমন গুরুত্বই দেয় না। অথচ আল্লাহ এর বদলায় তার মর্যাদা বুলন্দ করেন।’ সহিহ বোখারি

 বাক্যে কমনীয়তা ও ঋজুতা অবলম্বন করা। মহান আল্লাহ ফেরাউনের মতো জালেমের সঙ্গেও নরম ভাষায় কথা বলার আদেশ দিয়েছিলেন হজরত মুসা (আ.)-কে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের সঙ্গে নরম ভাষায় কথা বলবে।’ তাহলে মুসলমান পরস্পরের মধ্যে কী ধরনের বাক্যবিনিময় করবে তা বলাই বাহুল্য।

 শ্রোতার বয়স, মেধা, মানসিক অবস্থা এবং যোগ্যতার প্রতি লক্ষ রেখে কথা বলা। শিশুদের সঙ্গেও ভদ্রতা বজায় রেখে কথা বলা এবং তাদের সঙ্গে খুব তাত্ত্বিক কথা না বলা। এমনিভাবে মা-বাবার সঙ্গে কথা বলার সময় আল্লাহর নির্দেশ পালনে যতœবান থাকা। তাদের সামনে ‘উফ্’ শব্দ উচ্চারণ না করা, কোনো ধরনের কঠোরতা অবলম্বন কিংবা উত্তেজিত ও বিরক্ত না হওয়া। সর্বদা ভদ্রতা ও আদবের প্রতি খেয়াল রাখা।

 আবেগতাড়িত হয়ে কখনো কথা বলা যাবে না। কখনো এমন ভাবনা মাথায় আনা যাবে না, আমার কাছে যে ইলম আছে এটাই একমাত্র সঠিক। নিজেকে সর্বদা সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে রেখে অন্যের কথা ও মতামত শোনার মানসিকতা রাখা। সংক্ষিপ্ত এবং অর্থবহ বাক্যবিনিময় করা। অর্থহীন দীর্ঘ আলাপচারিতা থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা।

যার সঙ্গে কথা হবে দৃষ্টি রাখতে হবে তার দিকে। অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে কথা বলা যাবে না। মানুষের জবানের পবিত্রতা নিঃসন্দেহে আত্মার পবিত্রতার মাধ্যম। এজন্য জবানের স্খলনকে সাধারণ বিষয় মনে করা যাবে না। জবানের স্খলন থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরি। এই সতর্কতার গুণ অর্জন করতে সদা তৎপর থাকা এবং অন্যদের এ ব্যাপারে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। অন্যের দুর্বলতা দূর করতে না পারলেও অব্যাহত প্রচেষ্টায় নিজের সংশোধনী আসবে।