আজ থেকে অনলাইনে আবেদন

প্রকাশিত: 2:06 AM, November 25, 2021

আজ থেকে অনলাইনে আবেদন

নিউজ ডেস্কঃ দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম আজ শুরু হচ্ছে। প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রীয় মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের ওয়েবসাইটে (http://gsa.teletalk.com.bd) গিয়ে আবেদন করতে পারবে। সকাল ৯টায় আবেদন শুরু হবে। ৮ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) উপ-পরিচালক আজিজ উদ্দিন বলেন, ভর্তি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি এবং বিস্তারিত নির্দেশনা মাউশির ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে। এছাড়া ভর্তি ফরম ওয়েবসাইটেও পাওয়া যাবে। প্রথমবারের মতো এবার বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে। একজন শিক্ষার্থী ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবে। এবার কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না। ডিজিটাল পদ্ধতিতে অ্যাপসের মাধ্যমে আবেদনকারীদের নিয়ে লটারির আয়োজন করা হবে। ১৫ ডিসেম্বর হবে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় আর বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে লটারি হবে ১৯ ডিসেম্বর। ৩০ ডিসেম্বরে ভর্তির কাজ শেষ করা হবে। ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের সরাসরি ক্লাস শুরু হবে।

জেলা সদর পর্যন্ত ৩ হাজার ৯৮৮টি বেসরকারি এবং ৩৯২টি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এ কার্যক্রমের অধীনে আসছে। এডহক নিয়োগ না হওয়া সদ্য জাতীয়করণ করা বিদ্যালয়গুলো চাইলে এ পদ্ধতিতে যুক্ত হতে পারবে। আর না হলে তাদের অবশ্যই সরকার গঠিত সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কমিটির অধীনে ম্যানুয়ালি ভর্তির কাজ পরিচালনা করতে হবে। কিছুতেই পরীক্ষা নেওয়া যাবে না।

করোনার কারণে এবারে ভর্তির আবেদন ফি কমানো হয়েছে। চলতি বছর প্রতিটি বেসরকারি স্কুলে আবেদন ফি ছিল ২০০ টাকা আর সরকারি স্কুলে ১৭০ টাকা। এবার দিতে হবে ১১০ টাকা।

নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হতে হলে শিক্ষার্থীর বয়স ছয় বছরের বেশি হতে হবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তিতে ১০ শতাংশ কোটা বরাদ্দ রাখা হবে। অর্থাৎ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নির্ধারিত আসনের ১০ শতাংশ আসনে তারা অগ্রাধিকার পাবে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ১৮ থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভর্তি করানো হবে। অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ২৬ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভর্তি করানো যাবে। বেসরকারি বিদ্যালয়ে ২১ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত লটারিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো হবে। অপেক্ষমাণ তালিকা অনুযায়ী ২৮ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভর্তি হতে পারবে শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ও টেলিটক লটারির স্থান নির্ধারণ করবে। অনলাইন আবেদন ও ফি পরিশোধসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেসরকারি হাইস্কুলে ভর্তিতে অনিয়ম, জালিয়াতি ও বাণিজ্য বন্ধে সরকারি তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থী ভর্তির এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য আসনের সংখ্যা চাওয়া হয়েছে। লটারিতে শূন্য আসনের সমসংখ্যক শিক্ষার্থী সুপারিশ পাঠানো হবে। এ ছাড়া অপেক্ষমাণ তালিকায়ও সমান সংখ্যককে নির্বাচিত করে তালিকা প্রকাশ করা হবে।

সরকারি বিদ্যালয় : সারা দেশে এখন পর্যন্ত ৩৯২টি সরকারি বিদ্যালয় এ কার্যক্রমের অধীনে এসেছে। ঢাকা মহানগরে এবার আছে ৪৪টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও তিনটি ফিডার শাখা। এবার জাতীয়করণ হওয়া আরও দুটি বিদ্যালয় যুক্ত হয়েছে। এবারও বিদ্যালয়গুলোকে তিনটি গুচ্ছে (এ, বি ও সি) করে ভর্তির কাজ সম্পন্ন হবে। আবেদনের সময় একজন শিক্ষার্থী একটি গুচ্ছের পাঁচটি বিদ্যালয়ে ভর্তির পছন্দক্রম দিতে পারবে। এখান থেকে লটারির মাধ্যমে একটি বিদ্যালয় নির্বাচন করা হবে।

এ ছাড়া সারা দেশে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচনকালে থানাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা পাবে। প্রার্থীরা প্রাপ্যতার ভিত্তিতে প্রতিটি আবেদনে সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয় পছন্দের ক্রমানুসারে নির্বাচন করতে পারবে।

বেসরকারি বিদ্যালয় : জেলা পর্যায় পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ ভর্তি প্রক্রিয়ার অধীনে আনা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন কমপক্ষে একটিসহ ৫টি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা যাবে। নিজ প্রশাসনিক থানার বাইরে আশপাশের সর্বোচ্চ তিনটি প্রশাসনিক থানা ক্যাচমেন্ট এলাকা ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা যাবে। একই প্রতিষ্ঠানের দুই শিফটে আবেদন করলে দুটি প্রতিষ্ঠান বাছাই করা হয়েছে মর্মে ধরে নেওয়া হবে। আবেদনকারীরা আবেদনের সময়ে প্রতিষ্ঠান নির্বাচনকালে মহানগর পর্যায়ের জন্য বিভাগীয় সদরের মেট্রোপলিটন এলাকা এবং জেলা সদরের সদর উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা পাবে। এক্ষেত্রে প্রার্থীরা প্রাপ্যতার ভিত্তিতে প্রতিটি আবেদনে সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয় পছন্দের ক্রমানুসারে নির্বাচন করতে পারবে।