অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের মহাপরিকল্পনা করছেন বাইডেন

প্রকাশিত: 1:05 PM, March 30, 2021

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের মহাপরিকল্পনা করছেন বাইডেন

নিউজ ডেস্কঃ ইতিহাসের নজিরবিহীন বিপর্যয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বিশাল পরিকল্পনা নিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আমেরিকার সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য তিনি তাঁর পরিকল্পনার কথা জানাবেন। পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের পিটার্সবার্গ নগরীতে দাঁড়িয়ে আগামীকাল বুধবার প্রেসিডেন্ট বাইডেন তাঁর এই মহাপরিকল্পনার কথা জানাবেন। ২০১৯ সালে এই পিটার্সবার্গে দাঁড়িয়েই তিনি প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কত অর্থের প্রয়োজন হবে, তা জানাবেন। একই সঙ্গে তিনি আভাস দেবেন, এই অর্থ কোথা থেকে আসবে।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি।

অবকাঠামোর দিক দিয়ে বিশ্বের ১৩তম স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রকে অবকাঠামোর দিক দিয়ে আর পিছিয়ে থাকতে দেখতে ইচ্ছুক নন বর্তমান প্রশাসনের নীতিনির্ধারকেরা।

মহামারিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতিতে নাটকীয় চাঞ্চল্য আনার ক্ষেত্রে এই মহাপরিকল্পনা কাজ দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। আমেরিকাজুড়ে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হলে কর্মসংস্থান বাড়বে। অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।

সরাসরি নাগরিক প্রণোদনার বাইরে শুধু অবকাঠামো উন্নয়নেই এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থের পরিকল্পনা নেওয়ার কথা জানাতে পারেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি বলেছেন, প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পরই এ নিয়ে আইনপ্রণেতারা আলোচনা শুরু করবেন।

অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়াও সরাসরি আরেক দফা নাগরিক প্রণোদনার কথা ভাবছে বাইডেন প্রশাসন। স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিষেবা বৃদ্ধিসহ আরেক দফা নগদ প্রণোদনার জন্য সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও বার্নি স্যান্ডার্স ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন দুই দফায় তাঁর আমেরিকা পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন। প্রথম দফায় থাকছে অবকাঠামো উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা। আর দ্বিতীয় দফায় নাগরিকদের জন্য সরাসরি সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা।

বাইডেন তাঁর এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য উদারনৈতিক আইনপ্রণেতাদের সহযোগিতা-সমর্থন সহজেই পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নিজ দলের মধ্যপন্থী ও রক্ষণশীলঘেঁষা আইনপ্রণেতাদের সমর্থন পাওয়া নিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, রিপাবলিকান পার্টি নিশ্চিতভাবে বিরোধিতা করবে বলে ধারণা করা যায়। এই আশঙ্কা থেকেই বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমঝোতার প্রয়াস শুরু হয়ে গেছে।

বাজেট ঘাটতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা থেকে প্রেসিডেন্ট বাইডেন আমেরিকার করনীতিতে পরিবর্তন আনাবেন বলে আগে থেকেই জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, বছরে চার লাখ ডলারের নিচে পরিবারের আয়—এমন লোকজনের কর বৃদ্ধি হবে না বাইডেনের করনীতিতে।

বাইডেনের প্রস্তাবিত কর আইনে করপোরেট কর বর্তমান ২১ শতাংশ থেকে ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে। কর বৃদ্ধি করে রাজস্ব বৃদ্ধি ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় অর্থ ব্যয়ের জন্য বিভিন্ন পন্থায় আমেরিকার নাগরিকদের ওপর করের বোঝা বাড়বে বলে রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে প্রতিবাদ শুরু হয়ে গেছে।